Tuesday, 24 November 2015

ক ল্প বিজ্ঞাণের কাহিনী---বিস্ময়ক র সৃষ্টি ক্ষুদ্রতম পৃথিবী

বিস্ময়কর স্মৃষ্টি ক্ষুদ্রতম পৃথিবী " তপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
আমি যখন ঝাড়্গ্রামে ডাক্তার উকিলের সাধনা ক্ষেত্র উন্মেষে তাঁর সাথে দেখা করে ছিলাম
,ওনার বহু বিস্ময়কর আবিষ্কারের নিদর্শণ আমি স্বচক্ষে দেখেছিলাম ওনার ঘেরা আঙ্গিনার মধ্যে যে দুটি বড় গবেষণাগার ছিলো তার প্রমাণ আমি পেয়েছিলাম,কিন্তু বর্তমানে ঐ দুটি হল খালি পড়ে আছে সার সার কাঁচের মতন স্বচ্ছ অথচ ধাতুর থেকেও শক্ত পদার্থে বানানো বহু খাঁচাএকটি গবেষণাগারে বেশী ভাগ  খাঁচা গুলি খুব ছোট ,১বর্গফুটের বেশী নয়এমন প্রায় দুশোর অধিক খাঁচা পর পর সাজানো গবেষণাগারের তিন দিকের ঠিক দেওয়ালের পাশে,ঠিক লাইব্রেরীতে খোপ খোপ বই রাখার যে আলমারী বা শেলফ হয় তেমনিদু,চারটি  বড় খাঁচা ঢোকার দেওয়ালে, কিন্তু সব খাঁচাই ফাঁকা,বোঝা যায় বেশ কয়েক বছর পরিত্যক্তবস্থায় পড়ে আছে এই গবেষণাগার টির পাশেই অপর গবেষণাগারটিও যেটা অনেক বড় প্রায় ২০ কুড়ি বিঘা জমির উপর সেটাও ফাঁকা  মোটা মোটা স্টীলের ঘন ফ্রেম দিয়ে ঢাকা চারপাশ, এমনকি মাথার উপরের চালটিও ঐ রকম শক্ত পুরু ধাতব ফ্রেম দিয়ে ঢাকা ,চারপাশ পুরু কাঁচের মতন  স্বচ্ছ কিছু দিয়ে ঘেরা ভেতর থেকেএই ঘরটি অত্যন্ত পুরু লোহারফ্রেমে ঢাকা ভিতরে ঘরটি ১০-১২টি পার্টিশন দিয়ে আলাদা আলাদা করাপার্টিশন গুলি শক্ত পুরু ধাতব চাদর দিয়ে করাএই কক্ষটিও অনেক দিনের পরিত্যক্ত বেশ বোঝা যাচ্ছেএক দিকের দেওয়ালে যেদিক দিয়ে আমরা ভেতরে ঢুকলাম সেদিকে  ঢোকার জায়গাটা ছেড়ে সারা দেওয়ালে চারটি বড় খাঁচা সারা দেওয়াল জুড়ে

ডাক্তার উকিল জেঠুকে জিজ্ঞাসা করায় উনি বলেন ঐগবেষণাগারেই ছিলো তাঁর সবচেয়ে মুল্যবান সব সৃষ্টি
,নিজের সামান্য ভুল আর অসাবধানতার ফলে আজ ঐ বিরল মহান সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে ফাঁকা খাঁচায় পরিনত হয়েছেতাই কি ছিলো আমাকে চাক্ষুষ দেখাতে পারবেন না আর সৃষ্টি করার মতন সময় বা সামর্থ্য  নেই তাই তিনিএই ধ্বংসের জন্য প্রচণ্ড মর্মাহত এর পর ডাক্তার জেঠু বলেন,এর পরই আমি আর গবেষণা বন্ধ করে দিয়েছি,নিজের অন্তিম ক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছি ,বয়সতো  কম হোলোনা এই অশীতিপর বৃদ্ধের আরকি নতুন করে কিছু করার ইচ্ছা থাকে,এতো বড় আঘাত পাওয়ার পর?ডাক্তার উকিল জেঠু আমাকে বললেন,আমি তোমাকে  চাক্ষুষ দেখাতে না পারলেও এই গবেষণাগারে কি কি ছিলো তুমি অন্য একজন গবেষকের লেখা ডায়েরী থেকে জানতে পারবে দুটি খণ্ডে উনি দুটি গবেষণাগারের বর্ণনা লিখেছিলেনহতভাগ্য ঐ বিজ্ঞান সাধক গবেষক ডঃ পিটার স্মীথ আমার এখানে দিন পাঁচেকের জন্য এসেছিলেন,আমার খুব অন্তরঙ্গ স্নেহ ভাজন ছিলোএখানে এসে ডায়েরীতে সব বিবরণ যে লিখে রাখত জানতাম নাআমার এখানে থাকাকালীন কলিকাতা বসু বিজ্ঞান মন্দিরে একটা সেমিনারে যাবার আমন্ত্রণ পায়,কথা ছিলো ওখান থেকে নিজের দেশ জার্মাণীতে ফিরে যাবেএখান থেকে যাবার সময়  স্মীথ তার  সমস্ত কিছু  লাগেজ ব্যাগে ভরে নিয়ে  ছিলোকিন্তু ঘরের ড্রেসীং টেবিলের ড্রয়ারের মধ্যে রাখা ডায়েরীটা সঙ্গে নিতে ভুলে যায় হতভাগ্য স্মীথ দেশে ফেরার সময় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়ডায়েরীটা আমার কাছে থেকে যায়এই ডায়েরীতে আমার এখানেরই সব কিছুর বর্ণনা ছিলো, অন্য কোন কিছু গুরুত্বপুর্ণ লেখা ছিলোনা,তাই ওটা আর ওর উত্তরাধিকারীর কাছে পাঠানোর তাগিদ ছিলোনা,আমি চাইনি এখানের কিছু তখন প্রকাশিত হোকতোমাকে ঐ ডায়েরী দুটো দিলাম, দেখ যদি ওর লেখা বুঝে তুমি পরবর্তীকালে অনান্য লেখার সাথে এটাও প্রকাশ করতে পারো

ডাক্তার উকিল জেঠুকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সময় বহু বছর আগেই পেরিয়ে গেছে
আজ ঝাড়্গ্রামে ডাক্তার উকিল জেঠুর কর্মকাণ্ডের কোন নিদর্শণ ,অবশেষ আর নেইহয়ত বহু বছর আগেই ডাক্তার উকিল জেঠুও এই পৃথিবী ত্যাগ করেছেনআমার কাছে তাঁর ই দেওয়া উপহার স্বরুপ অমূল্য স্মৃতির ডায়েরীর কিছুপাতাএমনই উপহার হিসাবে পাওয়া ডঃপিটার স্মিথের লেখা ডায়েরীর পাতা থেকে যেমন অনুবাদ করতে সক্ষম হয়েছি তার উল্লেখ করলাম"আজ তিন দিন হোলো আমি ইণ্ডিয়াতে এসে ঝাড়্গ্রামে মিস্টার উকিলের বাংলোতে উঠেছিআমি জানতাম মিস্টার উকিল যাঁকে বৈজ্ঞানিক গবেষক মহলে ডক্টর উকিল বলে জানেউপেন্দ্র কিশোর লস্কর সংক্ষেপে উকিল বলেই সর্বত্র পরিচিত আর ডাক্তারি পড়াটা তিনি সম্পুর্ণ করে ছিলেন বলেই ডক্টর ,ফাইনাল পরীক্ষাটা দুর্ভাগ্য বশত দেওয়া হয়নি ওটা দিলে আর সব পরীক্ষার মতন প্রথমই হতেনএই পরীক্ষা না দেওয়াটাই তাঁকে পেশায় ডাক্তার হওয়ার  থেকে বৈজ্ঞানিক মহান গবেষকে পরিনত করেছে তাঁর বিস্ময়কর আবিষ্কারের বহু পরিচয় আমার ঘটেছেতার বাংলো উন্মেষে ছড়িয়ে আছে তার উদ্ভাবনী ক্ষমতার নিদর্শণআজ যে অকল্পনীয় প্রতিভার পরিচয় পেলাম এটা বিশ্বে কোন বৈজ্ঞানিক কল্পনাতেও আনতে পারবেন না এর বিন্দুমাত্র সৃষ্টির খবর দুনিয়াকে জানলে এক বিস্ফোরক সংবাদ হবেসারা বিশ্বের লোক হাজির হবে এই উন্মেষে

আমি মিস্টার উকিল কে কথা দিয়েছি যে এই সৃষ্টির খবর আমি কখনও কাউকে জানাবোনা
এই কথা দেওয়ার পরই আমি তাঁর এই বিস্ময়কর মহান আবিষ্কারের নিদর্শণ দেখার সৌভাগ্য হয়েছেআমি যা দেখেছি, জেনেছি, কিভাবে দেখা পেলাম আমার এই ডায়েরিতে লিখে রাখছি, এটা সম্পূর্ণ পৃথক অত্যন্ত গোপনীয়আমি মিস্টার উকিল কে তার বাংলোর বাইরে প্রচীর ঘেরা  বাগানের মধ্যে যে দুটি বড় বড় ছাউনি দেওয়া ঘর আছে, সেখানে কি আছে ?জানার আগ্রহ প্রকাশ করলে  মিস্টার উকিল আমায় বলেন  যে ওখানে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ বিস্ময়কর আবিষ্কারের নিদর্শণ রয়েছে,কিন্তু ওই নিদর্শণ সকলকে দেখানো যাবেনা,ঐ আবিষ্কারের কথা প্রকাশ করা যাবেনা আমার একান্ত অনুরোধে মিস্টার উকিল তখন ই ঐ আবিষ্কারের নিদর্শণ আমাকে দেখাতে সন্মত হন, আমি যখন কথা দিলাম যে মিস্টার উকিল যবে বলবেন তবেই এই মহান কীর্ত্তির কথা প্রকাশ করা হবে,তার আগে আর কেউ জানবেনা,এটা গোপন থাকবে

আজ সকাল ৯টা নাগাদ আমাকে ডেকে নিয়ে মিস্টার উকিল ঐ ঘেরা ঘর দুটির দিকে নিয়ে চললেন
নুড়ি বিছানো রাস্তা দিয়ে কিছুটা হেঁটে যাবার পর প্রথম ঘর যেটাকে উনি প্রথম গবেষণাগার বলে জানালেন সেখানে উপস্থিত হলামবড় বড় অনেক গুলি তালা লাগানো মজবুত ধাতুর(কোন বিশেষ ধাতু সংকর হবে অত্যন্ত কঠিন শক্তিশালী )গেট খুললেনএরপর ঐ রকম ধাতুর পাত দিয়ে ঘেরা বড় ঘরটা দেখতে পেলাম ওই ধাতুর ঘরের সামনে উপস্থিত হয়ে মিস্টার উকিল তাঁর কাঁধে ঝোলানো  ঝোলা থেকে একটাছোট রিমোট কন্ট্রোলার যন্ত্র বার করে সুইচ টিপতেই ধাতুর দেওয়ালের মাঝখানে একটা অংশে ধাতুর চাদর সরে গেলোবোঝা গেলো এটা ঢোকার দরজা ঐ দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম,কিন্তু সামনে আরো একটা স্বচ্ছ কাঁচের মতোন পদার্থে প্রস্তুত মোটা ভারী দরজা রয়েছে ওটাও রিমোট কন্ট্রোলারে খুলতে হোলো


এবার একটা হলের মধ্যে ঢুকলাম আমি আর মিস্টার উকিলআমরা হলে ঢোকার পরই পিছনের সমস্ত দরজা,গেট আপনা আপনি বন্ধ হয়ে গেলোহলের মধ্যে ঢুকে বোঝাই যাচ্ছেনা এটা একটা চারপাশ ঘেরা কক্ষমনে হচ্ছে খোলামেলা ঘর, চারপাশ দিয়ে আলো বাতাস ঢুকছেঘরের মধ্যে কাঁচের চৌকোবর্গাকার ,আয়তাকার,১বর্গফুটের মতন আয়তন,বহু বাক্স অনেকটা ঠিক মাছের একোরিয়ামের মতন, দেওয়ালের দিকে লাইন করে আবার উপরে উপরে সাজানো,যেদিক দিয়ে  ঢুকলাম ঐ দিক ছাড়া  সেদিকে  ঢোকার জায়গাটা ছেড়ে সারা দেওয়ালে একটাই বড় খাঁচা সারা দেওয়াল জুড়ে অপর তিন দিকের দেওয়ালের দিকে সাজানো এই বাক্স গুলো প্রথমে ঢুকে বুঝতে পারছিলাম না,ওই খাঁচা গুলোর মধ্যে কি রাখা আছে?মিস্টার উকিল কে জিজ্ঞাসা করতে উনি জানালেন-ধৈর্য্য ধর,সবই দেখতে ও বুঝতে পারবেএবার আমাকে অবাক করে দিয়ে উনি জিজ্ঞেস করলেন 'বনসাই' জানো?আমি উত্তর দিলাম " কেনো জানবো না?গাছপালার সমস্ত স্বাভাবিক আকার প্রকৃতি গুন বজায় রেখে তার হুবহু ক্ষুদ্র সংস্করণ বা  বামনাকার দেওয়াঅনেক বড় বড় গাছ যেমন বট,অশ্বত্থ,তেঁতুল,শিমুল,পলাশ,পাকুড় এই রকম বড় বড়গাছকে ছোট করে টবে বানানোবড় গাছের মতন এসমস্ত গাছেও ফুল ফল ধরে,বটের ঝুরি নামে স্বাভাবিক অবস্থার সাথে কোনো ফারাক থাকে না শুধু আকারে বহু গুন ছোটো হয়" মিস্টার উকিল বললেন ঠিক  বলেছ,আমার এই গবেষণগারে আমি বিশ্বের বর্তমান,আদিম,বিলুপ্ত সব কিছু, প্রাণী,উদ্ভিদের বনসাই তৈরী করে রেখেছিসেই প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসরাস থেকে শুরু করে এখনকার জলজ অতিকায় নীল তিমি,এনাকোণ্ডা থেকে উদ্ভিদের ও সব দেখতে পাবে যেমন প্রাগৈতিহাসিক যুগে তাল জাতীয় গাছ যার পাতা নিরামিশাষী ডাইনোসরাসরা খেত,এর থেকে শুরু করে বর্তমানে আফ্রিকার বাওবাও গাছ অবধিআমার চোখ বিস্ফারিত হয়ে উঠল,বিশ্বাস ই করা সম্ভবপর হচ্ছিলনা, এটাও সম্ভব?তার পর ঘুরে ঘুরে দেখলাম অবিশ্বাস্য ঐ কাঁচের একোরিয়ামের মধ্যে ডাইনোসরাসের মতন প্রজাতি,প্লীসিওরাস,ইকথিরোসাস,মেগালোস্রাস আর ইগুয়ানোডন,ব্রন্টোসরাস, স্টেগোসরাস, টেরোডাক্টাইল ,সব জীবন্ত কিন্তু অতি খর্বকায়,চলে ফিরে ঘুরে বেড়াচ্ছেআদিম মানুষ ছোট গাছের কোটরে,পাহারের মতো জায়গায় ছোট্ট গুহায়ডোডো পাখী ও আছে  ছোট্ট ছোট্ট শত খানেক খাঁচা ফাঁকা ওখানে এখনও  কিছু প্রজাতির প্রাণী বা উদ্ভিদের ধংসপ্রাপ্ত দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি যে গুলির ক্লোন করে ছোট করে রাখা হবে ভবিষ্যতেআমার সামনে প্রাগৈতিহাসিক যুগটা দৃশ্যমান হয়ে উঠল স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের লস্ট ওয়ার্ল্ড মনে পড়ে গেলোমিস্টার উকিল জানালেন ঐ খাঁচাগুলির মধ্যে যে প্রাণী বা উদ্ভিদ রাখা হয়েছে সেই খাঁচার আবহাওয়া অই প্রাণী যখন পৃথিবীতে   বর্তমান ছিলো তখ্ন কার আবহাওয়া পরিবেশ বজায় রাখা হয়েছে
আমি স্বচক্ষে দেখেও বিশ্বাস করে উঠতে পারছিলামনা -একটা বিস্ময়াচ্ছন্ন ভাব আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে
প্রত্যেক টা একোরিয়ামের কাছে গিয়ে ভেতরের প্রাণী,উদ্ভিদ্গুলির আচার,আচরণ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি যা বইতে পড়েছি জেনেছি সবের সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছেক্ষুদে টেরোডিকট্যালের পাখার ঝাপটা দেখলেই বোঝা যায় আসল এই বৃহত জীবটার পাখার ঝাপটা কতটা ভয়ঙ্কর ছিলোপ্লীসিওরাস লম্বা গলা নিরামিশাষীইগুয়ানোডন দেখতে ভয়ঙ্কর কিন্তু নিরামিশাষী টিরানোসরাস ভয়ঙ্কর আক্রমনাত্মকপ্রাগৈতিহাসিক সব থেকে প্রাচীন মাংসাশী বাদুর শ্রেণীর প্রাণী'ডাইমকোউন'খড়্গ দল বাঘ (Sabre-Toothed Tiger)এর, ম্যামথ এর বনসাই রুপ দেখলামবড় খাঁচায় সব একত্রে যেমন বাস্তব পৃথিবীতে ছিলো, আর ছোট্ট ছোট্ট  খাঁচায় তাদের বাচ্চাদের রাখা আছে আলাদা আলাদা করে

No comments:

Post a Comment