Sunday, 29 November 2015

ক ল্পবিজ্ঞাণের কাহিনী ১) বিশ্বের বিস্ময় ডাক্তার উকিল

১) বিশ্বের বিস্ময় ডাক্তার উকিল

(প্রারম্ভঃআমি ১৯৭৪ সালে অক্টোবর মাসে সরকারি চাকুরির সুবাধে কিছুদিন পুরানো ঝাড়্গ্রামে এক বাংলো বাড়িতে অল্প কয়েকদিন ভাড়াটে হিসাবে দুই বন্ধুদের সাথে গিয়ে ছিলাম,বন্ধুরা ১মাস থেকে চলে যায় ঐ বাংলোর মালিক আমাকে এমনিতেই ওনার বাংলোতে প্রয়োজনে থাকার জন্য বলেন, আমাকে খুব স্নেহ করতেন,আমার পরিচয় পাবার পর চুচুড়াতে আমাদের বাড়িতে একদিন এসে ছিলেন ওনার সাথে পরিচিত হবার পর  ওনাকে দেখেই এই লেখার সুচনা.১৯৬৫ সালে শ্রদ্ধেয় সত্যজিত রায়ের লেখা প্রথম প্রফেশর শঙ্কুর কাহিনী প্রকাশিত হয়, তখন থেকেই এই চরিত্রটি মনে গাঁথা ছিলো তার প্রভাব আরোপিত হয় আমার লেখার মধ্যে. ১৯৫৪-৫৫ সালে এদেশে ক ম্পিউটারের আগমন,১৯৬৫সালেComputer society of India 6th march শুরু হলেও ১৯৭৩ সালে IBM370 computer দিয়েই IIT Madras পড়াশুনার বিভাগ চালু করেসুপার কম্পিউটারের প্রবেশ ও প্রসার  ঘটে ১৯৮০ র প রবর্ত্তী সময়আমার কম্পিউটারের কাহিনীগুলি ঐ ১৯৮২-৮৩ সালেরপূর্বের লেখাগুলি,জুল ভার্ণ,এইচ জি ওয়েলস,আর্থার সি ক্লার্ক,বিভুতি ভুষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের'চাঁদেরপাহাড়'আর সুকুমার রায়ের জীব জন্তু বিষয়ক লেখার প্রভাব আছেলেখাগুলি অনেক আগের তাই এখন প্রযুক্তি উন্নত হওয়ায় লেখাগুলির আকর্ষণ কম লাগতে পারেযথা সময়ে প্রকাশ করতে না পারাটা আমার ব্যর্থতাআমি কল্পবিজ্ঞানের কাহিনী শুরু করলাম  পাঠকদের ভাল লাগলে পরবর্তী কাহিনী গুলি প্রকাশিত হবে নইলে এইটাই শুধু  প্রকাশিত হবে )


বিশ্বের বিস্ময় ডাক্তার উকিল গত কয়েক দিন ধরে ভাবছিলাম দিন কয়েকের জন্য কাছে কোথাও ঘুড়ে আসি,কথাটা মাথায় আস্তেই দীনু কাকার  কথা মনে হোলো দীনু কাকার একটা  কটেজ আছে ঝাড়্গ্রামে অনেকবার ওখানে যাবার জন্য বলেছেন,সুন্দর ব্যবস্থা, কেয়ারটেকারও আছে,যদুনাথ ,আমাকে চেনেপুরানো ঝাড়্গ্রামে যাওয়ার পথে বাস রাস্তার ধারেই পাঁচিলঘেরা ছোট একতলা সাদা কটেজ  দীনুকাকা আসার সময় আমায় বলেছিলেন"ঝাড়্গ্রাম যখন যাচ্ছ,একবার ডাক্তারউকিলেরবাংলোতে গিয়ে ওনার সাথে আলাপ করে খোঁজ নিয়ে এসো,ওনার বাংলোর নাম উন্মেষ" দীনুকাকা একটা লম্বা শ্বাস ছেড়ে বললেন-জানিনা উনি এখনো বেঁচে আছেন কিনা?মনে হয় উনি সুস্থই থাকবেন, অবশ্য তাঁর অনেক বয়েস, এখন নব্বই পেরিয়ে গেছে দীনুকাকা ডাক্তার উকিল সম্পর্কে বলতে শুরু করলেন,আমাকে বললেন,"তুমি আলাপ করলে দেখবে আশ্চর্য্য প্রতিভাবান মানুষ,জীবন্ত বিস্ময়  এই বাস্তব পৃথিবীতে যে এই রকম মানুষ জন্মেছে এটা ভাবলে অবাক হতে হয়দীনুকাকা খুব আবেগ প্রবন হয়ে উঠেছেন,বললেন 'আমি প্রথম পরিচয়েই বুঝেছিলাম উনি ভীষণ প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় ব্যক্তিত্ব পরে যত দেখেছি,জেনেছি ততই মুগ্ধহয়েছি ওনার সাথে প্রথম পরিচয় আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগেআমি তখন হ্যারিস এন্ড মার্টিন বুক সেলার্সএন্ড পাবলিকেশন প্রতিষ্ঠানে কাজ করিএই প্রতিষ্ঠান উচ্চশিক্ষার প্রায় সমস্ত বিষয়ের বই প্রকাশনা করত,তাছাড়া বিশ্বের নানা ভাষার মূল্যবানবই এরা বিক্রী করত, খুব নামী প্রতিষ্ঠানখুউব ব্যস্ত প্রতিষ্ঠান,ছাত্র-ছাত্রী,শিক্ষক,গবেষকদের ভীড় লেগেই থাকতআমি অবশ্য কাউন্টারে বসতামনা, আমার কাজ ছিলো বইএর যোগান ঠিক রাখাকাউন্টারে সেলস ম্যানেরা কোনো বিষয়ে অনুসন্ধান থাকলে, আমার কাছে জেনে খরিদ্দারকে সেই মতন জানাতএক দিন বিকালের দিকে আমার কাছে কাউন্টার থেকেএকজন সেলস ম্যান এসে জানালো একজন ভদ্রলোক কতকগুলি প্রাচীন বইএর খোঁজ করছেন, যদি স্টকেনাথাকে তাহলে যোগার করেদেওয়া যাবে কিনা?কিম্বা কোথায় পাওয়াযাবে জানালে উনি সবিশেষ উপকৃত হবেন,এগুলি একান্ত জরুরীবইএর তালিকা হাতে নিয়ে দেখি প্রায় সবগুলি প্রাচীন সংস্কৃতপুঁথী বিষয়ক,তার সাথে আবার জার্মাণ থেকে প্রকাশিত অত্যাধুনিক মূল্যবান চিকিতসা ও কারিগরি প্রযুক্তি বিজ্ঞান বিষয়ক বইঐ ভদ্রলোককে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতে বললাম ভদ্রলোককে প্রথমে দেখে কেমন জানি একটা সম্ভ্রম আদায়করা ব্যাক্তিত্ব বলে মনে হোলো,দেখলে শ্রদ্ধাজাগে,গলারস্বর বেশ গুরু গম্ভীরভদ্রলোকের সাথে আলাপে জানলাম উনি পদার্থবিদ্যা,রসায়ন নিয়ে স্নাতক হওয়ার পর ডাক্তারি পড়ছিলেন এবং ডাক্তারির ফাইনাল পরীক্ষার মধ্যেই তাঁর বাবার মৃত্যু জীবনে এক আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দিয়ে যায়ভদ্রলোকের নামে দুটি পেশার কারন জিজ্ঞাসা করায়,দীনুকাকা জানালেন ভদ্রলোকের নাম উপেন্দ্র কিশোর লসকর সংক্ষেপে উকিল আর বিশ্বেরযেকোন বিশিষ্ট ডাক্তার তুল্যজ্ঞান,পর্যবেক্ষণ,বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা তাই এই নামে পরিচিতিতিনি গবেষক বিজ্ঞানী,তাঁর গবেষণার বিষয়ওক্ষেত্র  বহু মুখী প্রাচীন ভেষজ চিকিতসা থেকে অত্যাধুনিক মহাকাশ গবেষণা সর্বক্ষেত্রেই অগ্রণী,তবে তিনি নিজের  কর্ম প্রতিভার জন্য বিন্দুমাত্র প্রচার বা প্রকাশ করতে কাউকে সুযোগ দেননিতিনি প্রকাশিত হন,চাননি এইজন্যই তিনি ঝাড়্গ্রামে একান্ত নিরিবিলিতে নিজস্ব পরিবেশের মধ্যে নিরলস গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেনতিনি বহু দেশীয়  ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে বহু সমস্যার সমাধান করেছেন,কিন্তু তার নামযুক্ত হতে দেননি সেই সব মহান কাজের সঙ্গে আমাকে দীনুকাকা বললেন-"তুমি তো বিজ্ঞান ভিত্তিক অনেক কল্পকাহিনী লেখ,ডাক্তার উকিলের সাথে আলাপ হলে দেখবে এমন অনেক তথ্য পাবে যা কাজে লাগিয়ে তুমি সারা জীবনে বহু আকর্ষণীয় লেখা লিখতে পারবে" আমি দীনুকাকার কাছে ডাক্তার উকিলের সাথে দেখা করব  কথা দিয়ে চলে এলাম  ক্রমশ-২     
 

No comments:

Post a Comment