Sunday, 17 July 2016

কল্প বিজ্ঞানের কাহিনী ভুতোবাবুর অদ্ভুত অতিথি'

ভুতোবাবুর অদ্ভুত অতিথি' তপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
২৬শে ডিসেম্বরঃ- সকাল ৭টা গেটের কলিংবেল টা সজোরে বার কয়েকবেজেউঠলোকেঊঅত্যন্ত অস্থির ভাবে বেল বাজাচ্ছেআমি আমার সারাক্ষনের সহচর, পরিচারকওদেহরক্ষকওবটে ,রাজেন কে ডেকে বোললাম ,দ্যাখতোএই শীতের সাতসকালে কার এমন জরুরীপ্রয়োজনহোলো এখানে আসার?রাজেন দরজা দিয়ে বেড়িয়ে সোজাগেটেরদিকেএগুলোআমারগেটে ডোর ফোন আছে আছেভিসুয়ালওয়াচার, তবুওআমিরাজেঙ্কেপাঠালামযদিকোনস্থানীয়লোকবিশেষ করে কাছেই যে আদিবাসীপল্লীটা আছেওখানকার কেঊ হলে চিনবে ওদেরসাথেওদের ভাষায়কথাবলেব্যাপারটামেটাতেপারবেযেটাআমারকর্মনয়রাজেনডোরফোনেআমার
অনুমতি নিয়ে লোকজন কে ভিতরে ঢুকতে দেয় রাজেন ডোরফোনে জানালো বাবুওইপাড়ার ভুতুরে বাবু এইচেন আপনাকে খুউব জরুরী দেখা রার প্রেয়োজন, আমি বুঝলামপাড়ার ভবতোষ বাবু যাকে সবাই ডাকনামভুতোবাবু বলেথাকেনতিনি কোনো বিপদেপড়েআমারমতামত সাহার্য্য জন্য এসেছেন উনি এমনি প্রায় আসেন এখানেরসব খবরাখবরআমাকেদিয়েযান,ওকে রাজেন ভুতুরে বাবু বলে মাথায় ঝাকড়া কাঁচা পাকা চুল, বেঁটেকিন্তুগাট্টাগোট্টাচেহারা ,গায়ের রঙটা বেশ চাপা ধুতি আর ফতুয়া পড়েন, শীতেরদিনেওপরেএকটাকম্বলকাটাজহরকোটআমিভিতরেডাকলাম, দেখিভদ্রলোক য়হন্তদন্ত হয়েআমার বারান্দায় হাজিরআমিচেয়ারেবসেএকটু বিশ্রাম নিতে বোলতেই উনি বিস্ফারিত চোখেবলে ওঠেন আর বিশ্রাম?বলেন কি মশাই ?আমার ঘুম, বিশ্রাম, খাওয়াদাওয়াসবমাথায় উঠেছে এখন,আপনি বলুন আমিএখনকিকোরবো? আমারবাড়িতেকাল মাঝরাতেএকঅদ্ভুতঅথিতিএসে জুটেছেন, দিন থাকবেন,তারপর তিনি চলে যাবেন বলেছেনআমিবোললাম এতোভালো কথাআপনিওঐ পুরেনো সেকেলে বাড়িতেএকা একা থাকেন এতো ভালোই হোলো একজন কথা বলার গল্পকরার সাথী পেলেনকদিনের জন্য, সুন্দরসময় কেটেযাবে আপনিতোকথাবোলতেগল্পকোরতেভালোইবাসেনভুতোবাবপ্রায় লাফদিয়ে বলেওঠেন সেতো মশাই মানুষেরসাথে, এইরকম আজব জীব অদ্ভুতুরে প্রাণীর সাথে থাকিকিকরে? আমিজিজ্ঞাসাকরি তার মানে? উত্তরে ভুতোবাবু যাবোললেনশুনেআমি স্তম্ভিত ,ব্যাপারটা তাঁরকথায় এইরকম,কাল রাত ১০টা নাগাদ খেয়ে দেয়ে বিছানায় লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ি, ঘরে একটাহাল্কাজিরো পাওয়ারের নাইট ল্যাম্প জ্বালাথাকে, আরআমার বাঁ পাশেদেওয়ালেকাঁচেরপাল্লাবন্ধকরাজানালা, বাইরে আমার পাঁচিল ঘেরা বাগান তাতে নানা রকম ফল ফুলের গাছরাতেবাগানে বাড়ির দেওয়ালে লাগানো আলোর শেড থেকে আলো পড়ে যাতে কিছুটাদেখাযায়কালরাতে শীতটা বেশ জাঁকিয়েইপড়েছিলো, আপনি তো বুঝবেননাআপনারবাড়িতেকিশীতকিগ্রীষ্মএক রকম তাপমাত্রা, ঘরের আলোও তাই রাতদিন কোন বোঝাযায়না একই রকম আলো, তবু বলি কালছিলো পুর্ণিমা আকাশে চাঁদ আর তার আলোয় আমার বাগান ঝল মল কোরছিলো আমিশোয়ার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়ি
রাত তখন সাড়ে তিনটা আমার কাঁচের জানালায় একটা ছোট ফুট দেড়েকের কোনো প্রাণীএসে দেখি ধাক্কাদিচ্ছে,আমি প্রথমে অতো গানাদিলেও দেখি প্রাণীটা খুউবজোরে প্রাণপনেজানালা খুলে ভিতরে আসার চেষ্টা কোরছে কি প্রাণী দেখার খুউব কৌতুহল হোলো, আমিটর্চ নিয়ে জানলার কাছে গিয়ে টর্চের আলোয় দেখি সুন্দর সাদা পালকে মোড়া একটা ফুটদেড়েকের বিড়ালের মতন প্রাণী মুখটা মানুষের মতন , নাক কান সবই সুন্দর কিন্তু পীঠেরদিকে দুটি ডানাআমি জানলার কাছে গিয়ে অস্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম যেহেতু জানলাটাতেসামান্য ফাঁক কাঠে থাকায়  অনেক দিনের পুরানো জানালারোদ জল ঝড়েকাঠ ছোটো বড়হয়েছে বা বেঁকেছে তাই আমিস্পষ্ট শুনলাম প্রাণী টা আমায় বোলছে ভুতনাথ মহাশয়, আমারখুউবকষ্টহোচ্ছেএইকুয়াশায়আমাকেএকটুভিতরেথাকারজায়গা দিন , আমি ভিতরে গিয়ে সববোলছি তাড়াতাড়িঢুকতেদিন,এখনগাছের কোটর খোঁজারঅবস্থানেই আমার আমিহতবুদ্ধি হয়ে জানালার পাল্লা খুলতেই প্রানীটা সুরুত করে ঘরে ঢুকে আমার বিছানার পাশে খোলা দেওয়াল আলমারীর তাকে গিয়ে বোসলো আমি কাঁচের জানালাবন্ধ করেখাটে এসেআবার শুয়ে জিজ্ঞাসা কোরলাম তুমি কে ? কোথাথেকে এসেছো? তোমারএমন অদ্ভুতচেহারাকেনো? ইত্যাদি এক নিঃশ্বাসে সব প্রশ্ন কোরে ফেললামপ্রাণীটা এক এক করে সব উত্তরদিয়ে যা জানালো তা হোলো তার ভাষায় 'আমি এঞ্জেল সুদুর ফ্লোরেলা গ্রহের বাসীন্দা৭৩৩২ কোটি আলোকবর্ষদূরে এই গ্রহ, আমরা তিনজন এঞ্জেল তিন দিকে তিনটি গ্রহে যেখানে প্রানের সন্ধান আমরা পেয়েছি সেখানে আমাদের গ্রহের সময় হিসাবে একের দশ বিলিয়নেরএক মিলিয়নথ সেকেন্ড যা তোমাদের এখানে দু দিনের কিছু কম সময়,আমরা অবস্থান কোরবো এর মধ্যেই গ্রহের সব দরকারি তথ্য জানা হয়ে যাবে তোমাদের এখানে আমি একটু  আগে এসেছি আগামী পরশু রাত৯টায় আমি আবার ফেরার যাত্রা শুরু কোরবো আমি  দিনের বেলাটা শুধু এখানে থাকবো, সুর্য্য ডোবারপর অন্ধকার নামলে চলে যাবো আবার  ভোর হওয়ার আগেই ফিরে আসবো, দুটো দিন তোমার কষ্ট আমাকে একটু আড়ালে দিনেরবেলা লুকিয়ে রাখতে হবেকেঊ যেন না জানতে পারে, জানলে আমার ভীষণ ক্ষতি  হবেআমি এঞ্জেল কে কথা দিয়েছি কাঊকে জানাবোনা তাই আমার ওখানে নিশ্চিন্তেআছে নইলে অন্য কোথাও পালাতো আমি সাথে সাথে আপনার কথা ভাবলুম, আপনাকেনা জানালে হয় এমন ব‍্যাপার ?
তা যাবেন নাকি মশায় এক্ষুণি ? আমি বোললাম অবশ্যই যাবোআসুনএখানেসকালেরজল
খাবারটা খেয়ে নিই এক সাথে তারপর চলুন যাই দেখে আসি, সাক্ষাৎকার নিয়ে আসি
আপনারঅদ্ভুত অতিথির
আমাদের জল খাবার খেয়ে তৈরী হয়ে বেরুতে সাড়ে টা বেজে গেলো
২৭ শে ডিসেম্বরঃ-কালকেযেঅভাবনীয় বিস্ময়কর ঘটনাটা আমার সামনে চোখের উপর ঘটেগেছেএখনোতা বিশ্বাসকরে উঠতে পারছিনা কি করে সম্ভব? আমার এতো দিনের ধ্যানধারণা বদলেগেছেঅনেক টা , কাল সকাল ১০ টা নাগাদ ভুতনাথ বাবুর বাড়িতে পৌঁছাই, পাঁচীলঘেরা বাগানেরমাঝে পুরানোএকতলাপাকা বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণেরঅভাবে বাড়িরদেওয়ালেরপলেস্তারা খসেখসে পড়ছে,বাগানে অনেক ফলের গাছ, আম, লিচু জাম, বাতাবি লেবুবাড়িরসামনেদিকেফুলের বাগান সুন্দর গাঁদা, ডালিয়া ,চন্দ্রম্ললিকা, কিছু সিজন ফ্লাওয়ারের গাছেও ফুলে ভর্তি
বাড়ির বাইরে দিকে হাল্কা সবুজ রঙ রোদে জলে আরো হাল্কা হয়ে গেছেলোহার গেটেরতালা খুলে ভিতরে ঢুকলাম ভুতো বাবু আবার গেটে তালা লাগিয়ে দিলেন যাতে বাইরেরকেঊ না আসে এই সময়এবারবাইরের ঘরেরতালা খুলে ভিতরে ঢুকলাম ভুতো বাবু আমাকে বাইরের ঘরে চেয়ারেবসারজন্য বোললেন তিনি ভিতরেতারশোবারঘরে গিয়েদেখেআস্তেগেলেন অতিথি আছে কিনা? কেমন আছে? ঘুরেএসেজানালেনঅতিথিবহালতবিয়তেদেওয়ালআলমারীরতাকে বসেআছে, তাঁর জন্য অপেক্ষায় এদুবার ভুতো বাবু  ডাক্তার উকিল কে নিয়েঐঘরে ঢুকতেই অদ্ভুত অতিথি দুজনাকে চমকে দিয়ে স্পষ্ট বলে উঠলো,ডাক্তারউকিলও ভুতনাথ মহাশয় শুভ সকাল আমিও প্রত্যুত্তরে সুপ্রভাত জানালাম এবার অতিথি আমায়
প্রশ্ন করে ডাক্তার উকিল মহাশয় আপনি এঞ্জেলদের বিষয়ে কি জানেন?আমি জানাই যে এঞ্জেল একটি কাল্পনিক রুপ কথার চরিত্র দেবদুত বা পরী, মানুষের মতো দেখতে অপরুপসুন্দর দুটি পালকের ডানা থাকে এরা স্বর্গ থেকে মর্ত্তে েকোন নামে এদের অনেক গুন এদের নিয়ে বহু কল্প কাহিনী পৃথিবীর নানা দেশে নানা ভাষায় প্রচলিত আছে বাস্তবে এদের কোনো অস্তিত্ব নেই ছেলে ভুলানো কাহিনীঅতিথি আবার আমায়প্রশ্নকরে 'তাহলে  আপনার বিশ্বাসএঞ্জেল একটিনিছক কাল্পনিক ব্যাপার? আমায় দেখেও এখন ও কি সেই একই ধারনা পোষন করেন? আমি বলি আমার কাছে প্রামান্য কোন তথ্য ই নেই যা থেকে আমি স্থির সিদ্ধান্তে আস্তে পারি যে এঞ্জেল অন্য কোন আমার অজানা প্রাণীও এই রকম আকৃতির হতে পারে তা পারে, আগন্তুক অথিতির উত্তর , তবে আমার বিশেষত্বের কিছু নিদর্শণ আমি দীয়ে যাবো যাতে আপনাদের অন্তত এটুকু বিশ্বাস জন্মায় যে আমি সাধারণ রক্তমাংসের জীবনই অনান্য আর পাঁচটা প্রাণীর থেকে স্বতন্ত্র আমার চরিত্র এই দেখুন আপনি পৃথীবির যেকোন স্থানের যেকোন ভাষায় আমায় প্রশ্ন করুন আমি তার উত্তর সেই ভাষায় বা অন্য যেকোন ভাষায় দিতে সক্ষমআমি আমার জানা ভারতীয় নানা প্রদেশের ভাষা ছাড়াও স্প্যানিশ, রাশিয়ান ,জাপানী ভাষায় নানা কিছু জানতে চাইলে তক্ষুণী তার উত্তর প্রথমে সেই ভাষায় পরে বাংলায় পেয়ে গেলাম আমি অবাক হতেই শুনি অতিথি বোলছে এতেই অবাক ?আমি আপনার সমস্ত ক্রিয়া কলাপ ঘটনার বিবরণ দিতে পারি ডাক্তার ঊকিল বুঝতেই পারছেন আমি আপনাকে যখন ডাক্তার উকিল বলেই সম্বধন কোরছি তখন আপনার সব খুঁটিনাটি খবরা খবর আমার নখ দর্পণেআপনার সব গবেষণা ফলা ফল যাআজ অব্ধি প্রকাশিত হয়েছে যা হয়নি সব আমার জানা, আপনার জীবনের সব মুহুর্ত্ত আমার সামনেজ্বল জ্বল কোরছেআপ্নার বাংলো উন্মেষে যাযা আছে তার থেকে শুরু কোরে আপনার জীবনের স্মরনীয় ঘটনা গুলি মগজ চালান, কম্পিউটারিভ্রাট রহস্য,মৎস কন্যা রহস্য,আকাশ যানের বিপদ,এনাপ্যান্থাসীকোণ্ডা ,আরশুলা সব আপনি কি ভাবছেন কি কোরবেন তাও অজানা নয় এইযে ভুতনাথ মহাশয় আপনাকে যে আমাকে দেখনোর জন্য ডেকে আনবেন, ডেকে আনতে গেছেন, আপনার ফতুয়ার পকেটে যে আপনার আবিস্কৃত মাইক্রোওয়েভ অপারেটেড থার্মোলেজার ডিমিলাইজিং মিনি গান টা রাখা আছে তাও দেখতে পাচ্ছি কি ঠিক বোলছি তো? সব শুনে আমি তো থ' বনে গেলাম, মুখে কথা সরেনা, বিস্ফারিত চোখে চেয়ে আছি অতিথি বোলেই চলেছেন ঐ অস্ত্র সব আমাদের উপর প্রযোজ্য নয়, কাজ কোরবেনা চেষ্টা কোরে দেখতে পারেনআমরা দৃশ্যমান থেকে মুহুর্ত্তে অদৃশ্য হয়ে যেতে সক্ষম কিন্তু অদৃশ্য হোলে আমাদের দিক ভ্রম হয়  যত ক্ষণ না আবার দেহ ধারণ করি তাই নিতান্ত নিরুপায় না হলে আমরা অদৃশ্য হইনাআমি জানি ডাক্তার উকিল মহাশয় আমাকে আপনার পরীক্ষাগারে নিয়ে যাবার প্রবল ইচ্ছা আপনার, কিন্তু তার উপায় নাই ,যেহেতু আমার সাথে আর কোনো সঙ্গীনাই যে আমার কোনো বিপদ বা ক্ষতি হলে তা থেকে আমাকে রক্ষা কোরতে , বা বাঁচাতে সক্ষম হবে, তাছাড়া হাতে সময় নেই্‌আমার বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ এখন ও বাকী
আমি আপনার মতন একজন গুনী বৈজ্ঞাণিকের জন্য ই অপেক্ষায় ছিলাম যে কিনা আমাদের বিষয়
দুনিয়াকে জানাবে প্রচার কোরবে আমাদের বাস্তবে অস্তিত্ব, পৃথিবীর লোকের আগ্রহ জন্মাবে সাড়া পড়ে
 যাবে, তখন আমাদের নিয়ে গবেষণা শুরু হবে আমাদের গ্রহের অনুসন্ধান শুরু হবে
আমি আপনাকে একটিএকটি অমুল্য সম্পদ মাইক্রোস্পেশাল লাইফ সিগ্ন্যাল জেনারেটর কাম ট্রেশার ডিভাইস দিয়ে যাচ্ছি
 এটার সাহার্য্যে অন্য কোন গ্রহে জীবন্ত প্রানী সে যত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হোক না কেন থাকলে তার সংকেত পাবেন এবং এতেই অটো রেঞ্জ ডিস্ট্যান্স ফাইণ্ডার আছে ফলে দিক নির্দেশ দুরত্ব সবই পাওয়া যাবে আমরা এর ই সাহার্য্যে সব গ্রহ যেখানে জীবনের সন্ধান পাওয়া যাবে সেথায় যাই
এই ভাবেই এই রাসায়নিকের প্রভাব, নানা রকম তরঙ্গের উপস্থিতি আমার সঙ্কট সৃষ্টি কোরবে
আমাকেএকটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খালি চোখে ভালো দেখাই যায়না এমন একটাওষুধেরট্যাবলেট বড়ির মতন বস্তু দিলো আর বোললো এটাই হবে আগামী দিনে আপনার গবেষণার প্রধান বিষয়
আমি হাতে নিয়ে এক মনে গভীর মন সংযোগ সহকারে ওটা দেখতে লাগলাম হঠাৎ সাঁই করে শব্দে মুখ তুলে দেখি দরজা দিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে এঞ্জেল বেড়িয়ে ঊড়ে বাগানের মধ্য দিয়ে মিলিয়ে গেলো আমি আর ভুতো বাবু হতবম্ব হয়ে গেলাম,আমাদের একদম বোকা বানিয়ে দিয়ে চলে গেলো, আর এই যন্ত্রটা চলে কিসে? কিভাবে চালায়? আদৌ এটা কোন যন্ত্র কিনা জানিনা

ক ল্পবিজ্ঞানের কাহিনী ডাক্তার উকিলের ডায়েরী থেকে- আরশুলা

ডাক্তার উকিলের ডায়েরী থেকে- আরশুলা ' তপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ডাক্তার উকিলের ডায়েরী থেকে সংগৃহীত আর একটি কাহিনী হুবহু তাঁর লেখার বয়ানেই লিখছিপ্রয়োজনে কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য বাদ দিতে হয়েছে দুর্বোধ্য বোলে
১৯ শে সেপ্টেম্বরঃ কাল আমার বহুদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের সাফল্য,প্রাণি কোষ বিবর্ধকের জন্য যে ভেষজ ঔষধ ' বিবর্ধক' নিয়ে গবেষণা কোরছিলাম তার কাজ সম্পুর্ণ কোরতে সক্ষম হয়েছি তৈরী হয়েছে মুল উপাদান এটি ভেষজ উপাদানে প্রস্তুত এক প্রকার উৎসেচক যা অতি দ্রুত প্রাণী দেহের সমস্ত কোষ কে বহু গুন বিবর্ধণ কোরতে সক্ষম মুহুর্ত্তে প্রাণীটির আকৃতি বহুগুন বর্দ্ধিত কোরে দেয়

পরমানুর যে বিভাজন প্রক্রিয়া ফিশান, তার চেয়েও দ্রুত এরকাজ কোষবিভাজনে
আমি হাইড্রার উপর এক ফোঁটা প্রয়োগ করে দেখেছি ওটা মুহুর্ত্তে ২ফুটের বন্সাই নারিকেল গাছের মতন আকৃতি নিয়েছিলো কিন্তু পরীক্ষাগারে বিশুদ্ধ জল তখন না থাকায় হাইড্রাটি তক্ষুনী নষ্ট হয়ে যায়,আমার পরীক্ষা গারে একটা কাঁচের শিশিতে  ওই ভেষজ ঔষধ ' বিবর্ধক' এর একটু খানি অবশিষ্ট ছিলো সেটা মুখ বন্ধ করে রেখে এলাম চারপাশের জানালা সব বন্ধ কিনা দেখে নিলাম এই ঘরে  বাইরে থেকে যেন কিছু না ঢুক্তে আর ঘর থেকেও যেন কিছু না বেরূতে পারে নিশ্চন্ত হয়ে , পরীক্ষাগারের দরজা বন্ধ করে তালা দিয়ে এলাম
২০শে সেপ্টেম্বরঃ - রাত্রিটা প্রবল উত্তেজনার মধ্যেই কাটালাম,আমার এতোদিনের পরিশ্রম স্বার্থক, নিজে চোখেই দেখেছি , আমি আজ বেশ কিছুকাল যাবৎ প্রাণী জগৎ এর বিবর্তনের উপর গবেষণার কাজ শুরু করেছি, আদ্য প্রাণী প্রটোজোয়া থেকে এনিমেলিয়া পর্বের মেরুদণ্ডী প্রাণী হোমোস্যাপিনিয়াস, মানুষ গোত্রে উত্তরণের পদ্ধতিটা জানার প্রবল ইচ্ছা আমাকে পেয়ে বসেছে
আমি ইতি মধ্যে ই প্রাণীর ক্ষমতা ও দক্ষতার উন্মেষ ঘটানোর জন্য ভেষজ ঔষধ 'স্ফুরণ'প্রস্তুত করে প্রাথমিক পরীক্ষার কাজ সেরে রেখেছিপরীক্ষা গারে একটা ছোট শিশিতে ওই 'স্ফুরণ' রাখা আছে আমি প্রাণী জগতের অমেরুদণ্ডী প্রাণীর একদম প্রাথমিক দিকের সিলেন্ত্রারেটা collenterata) বা নিভারিয়া(Chinderia) পর্বের হাইড্রাকে বেছে নিয়েছিহাইড্রা নাম টি কাল্পনিক বহু মস্তক বিশিষ্ট গ্রীক দৈত্যের  নাম,যার মাথা কাটলে আরো বেশী মাথা গজাতো থেকে এসেছে হাইড্রা হারানো বা ক্ষতিগ্রস্থ অংশ পুন রায় সৃষ্টি কোরতে পারেহাইড্রার পুনরুতপত্তি ক্ষমতা প্রচণ্ড এদের আকৃতি অতি ক্ষুদ্র ১০মিলিমিটার, মুক্তজীবি, মিস্টিজলে ক্টহিন বস্তু বা জলজ উদ্ভিদের পাতার নীচে নিন্ম মুখী ঝুলে থাকে,এরা মাংসাসী কর্ষিকার সাহার্য্যে খাদ্যগ্রহণ করে,চলাফেরা করে দেহের সংকোচন প্রসারণের কর্ষিকার মাধ্যমে এই হাইড্রার উপর আমার বিবর্ধকের প্রভাব আমাকে আশাতীত সাফল্য এনে দিয়েছে
গত কাল হাইড্রাটির বিবর্ধনের অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে উচ্চতা হারিয়ে একটা গোলাকার পিণ্ডে পরিনত হয়েছিলো  সেটিকে নষ্ট না করে একটি কাঁচের পাত্রে দু ফোঁটা স্ফুরণ দিয়ে টেবিলে রেখে এসেছি
সারারাত উত্তেজনায় ঘুম হয়নি সকালে উঠেই পরীক্ষাগারে যাবার জন্য তালার চাবিটা নিয়ে সবে বেরুতে যাচ্ছি দেখি আমার পোষা এলসেসিয়ান কুকুর ভিক্টর এসে পাশে হাজির সাথে পোষা বিড়াল মোটকু
ওরাও আমার সাথে ল্যাবোরেটরীতে যেতে চায় আমাকে এরা একা কোথাও যেতে দিতে চায়না অগত্যা সাথে চলল  ল্যাবের দরজার তালা খুলতে চাবিটা তালায় লাগানো মাত্র দেখি ভিক্টর প্রচণ্ড জোরে ভেউ ভেউ করে ডাকতে শুরু করেছে আর মোটকু ও লোম ফুলিয়ে গরর গরর করে আক্রোশে ফুঁশছে, বুঝলাম ওরা কোনো বিপদের আঁচ পেয়ে আমাকে সতর্ক কোরছে আমি একটু থমকে আস্তে আস্তে দরজাটা খুললাম ,দ রজা খোলার সাথে সাথে আমার মুখের উপর দানার ঝাপটার মতন ঝাপটা আর একটা বড় পাখীর মতন কি দ্রুত ঊড়ে গেলো বাইরে বাগানের দিকে আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না,সাবধানে ভিতরে ঢুকলাম, আলো গুলো সব জ্বালালাম যদিও ল্যবের ভিতর অটো লুমিনিয়াস ব্যবস্থা আছে  ভিতরে আলর অভাব হয়না তবু অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থাও আছে ভিতরে টেবিলে গিয়ে দেখি কালকের হাইড্রার পিন্ডটি উধাও, বিবর্ধক' আর স্ফুরণের
শিশি টেবিলে ভাঙ্গা পড়ে আছে
, আমি হতভম্ব কি হোলো? বাইরে থেকে কেঊ আসেনি কি হতে পারে? হঠাৎ আমার মাথায় এসেগেলো আমার পরীক্ষাগারে ভিতরে সলিড স্টেট ইমেজ সেন্সিং আর রেকর্ডিং ব্যবস্থা আছে তাতেই সব ধরা থাকবে
২১শে সেপ্টেম্বরঃ- আমি কালকের ঘটনাটা কাল ডায়েরীতে লিখতে পারিনি কারন বিস্ময়ে আমি হত চকিত হয়ে গেছিলাম এই অবিশাস্য কাণ্ড দেখে
,আজ ধীরে সুস্থে লিখছিকাল সন্ধ্যায় পরীক্ষাগার ছেড়ে বাংলোতে ফিরে আসিআসার সময় হাইড্রাটার পিন্ডটা টেবিলে একটা কাঁচের পাত্রে রাখা ছিলোঘর থেকে চলে আসার প্রায় ঘণ্টা দুয়েক বাদে ঐ পিন্ডটা আকারে বড় হতে থাকে ছিলো ছোটো মার্বেল গুলির মত ৪ঘণ্টার মধ্যে বড় ফুটবলের আকার নেয়, তখন টেবিলের কাঁচের পাত্র থেকে টেবিলে গড়িয়ে পড়ে, এবার গড়াতে গড়াতে টেবিলেরশিশি বোতল গুলো ফেলে ভাঙতে থেকে ঐ পিণ্ডটার গা থেকে হাইড্রার কর্ষিকার মত বের হয়  সেগুলো নাড়াচাড়া কোরতে শুরু করে, টেবিলের শেলফ থেকে বিক্রিয়কের শিশি বোতল পড়ে টেবিল ভেসে যায় সব মিশে একাকার এর মাঝে ওই হাইড্রার পিণ্ডটি  মাখামাখি হয়ে যায় তার কিছুক্ষন বাদে ওই হাইড্রাটি প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে শুরু করে চক্রাকারে ,আস্তে আস্তে ময়দা র তালের মতোন লম্বা  হয়ে যায় , মাথার কর্ষিকা দেহের নীচে সন্ধি পদের আকার নেয়, দেহের উপরের অংশ টা শক্ত খোলসের মত আকার নেয় পিঠের দিকে চারটি ডানার মত গজায় একটা বিশাল আরশুলায় পরিনত হয় প্রায় তিন ফুট দেহ ডানা বা পাখনা গুলো বেশ বড় তাই পাঁই পাঁই করে ঘরে ঊড়তে শুরু করে এখনে সেখানে উড়ে গিয়ে বসেসকালে দরজা খুললে ওটাই সবেগে দরজা দিয়ে ঊড়ে বেরিয়ে যায়
এগুলো সব ই সলিড স্টেট ইমেজ কপিয়ার থেকে পাওয়া তথ্য ও চিত্র
আমি হতাশ আমার গবেষণার এই মর্মান্তিক পরিনতিতে আমার কাছে কোনো প্রমান নেই , আমার দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন দুর্গমস্থানের থেকে সংগৃহীত দুঃস্প্রাপ্য সব উপকরণে প্রস্তুত বিবর্ধক আর স্ফুরণ নিঃশেষ আমার এই তথ্য চিত্রের বিশ্বাস যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কারণ এগুলো বানানো যায় প্রযুক্তির সাহার্য্যে এখন চিন্তিত ওই দৈত্য আরশুলাটা কোথায় গেলো ওটার আয়ু কতক্ষন? ওটার আরো বিবর্তন ঘটেছে কিনা কিছুই বুঝতে পারছিনা?
২৫ শে সেপ্টেম্বরঃ- কালকের রাতে ঘটে যাওয়া দুঃখ জনক প রিনতিতে আমি বাকরুদ্ধ
, আমার শেষ আশার প্রদীপ টাও কাল মাঝ রাতে নিভেগেছে সব প্রমান নিঃশ্চিহ্ন গত তিন দিন আমি সারাক্ষণ ওই আরশুলাটা কোথায় চারপাশে খুঁজে বেড়িয়েছি, সাথে ভিক্ট র আর মোটকু কে নিয়ে, কোনো হদিশ পাইনি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে,গত কাল রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম হঠাৎ রাত তখন আড়াইটে  হবে , ঘুম ভাঙ্গলো ভিক্টরের প্রচণ্ড চিৎকারে দেখি ভিক্টর বাংলোর ঘেরা পাঁচিলের দিকে তাকিয়ে ঘর থেকে বেরুনোর জন্য ছট ফট কোরছে, মোটকু ও লোম ফুলিয়ে অই একি দিকে চেয়ে অস্থির হাব ভাব আমি উঠে আমার ইলেকট্রণিক আল্ট্রা পাওয়ারফুল টর্চটানিয়ে বাগানের দিকে দেখবো ভাবছি ওই দিকে আমার  গবেষণার জন্য বেশ কিছু হিংস্র শ্বাপদ খাঁচায় বন্দী আছে, রাতে ওদিকে যাওয়া  অন্য কারোর পক্ষে নিরাপদ নয়, আমার ভিক্টর , মোটকু জানে ওরা নিরাপদ দুরত্বেই থাকে, আমার সাথে আত্মরক্ষার অস্ত্র আছেমাইক্রো ওয়েভ কম্পাঊণ্ড লেজার ডিমিনিশিং গান
অদৃশ্য রশ্মিতরঙ্গ যার উপর পড়বে সে তক্ষুনী বিলুপ্ত হয়ে যাবে প্রচণ্ড তাপ শক্তিতে ভস্বিভুত হয়েযাবে শরীর
বাইরে এসে ঐ পাঁচিলের দিকে এগিয়ে টর্চের আলোয় দেখি চিতা বাঘের খাঁচায় ছিন্নভিন্ন একটা প্রকাণ্ড বড় আরশুলা র মতো দেখতে প্রাণীর দেহাবশেষ দেহ টা খেয়ে নিয়েছে পাখনা ছিন্নভিন্ন পড়ে আছে চেনার উপায় নেই নেহাৎ আমার জানা তাই চিনলাম নইলে ওটা কোন পাখীর ডানা বলে মনে হতো
আমি গিয়ে দেখি মাথাটা চিবোচ্ছে পুঞ্জাক্ষি আর সন্ধিপদের টুকরো মুখ থেকে ঝুলছে তাই সনাক্ত করা গেল এটা ঐ আরশুলাটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে এলাম,সব শেষ